মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
তানোরে ধর্ষণ চেস্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ১৫৪ ধারায় চালান খানসামায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ২৪ ঘন্টায় আরও ২৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালে শয্যা বাড়াতে রিট দেড় লাখ টাকায় মিনুর সাথে কুলসুমীর চুক্তি রাজ কুন্দ্রার দুটি অ্যাপ থেকে ৫১ টি পর্নো ভিডিও জব্দ নিয়মিত মাদক সেবন করতেন নায়িকা একা দুমকিতে পায়রা নদী ভাঙ্গন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বসুরহাটে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, কার্তুজ-ককটেল উদ্ধার উদ্বোধনের অপেক্ষায় দৃষ্টিনন্দন আত্রাইয়ের ভূমি অফিস ‘রাতের রানী পিয়াসা ও মৌয়ের কাজ ছিল ব্ল্যাকমেইল করা’ বাসায় মিললো মদ, মডেল মৌ বলছেন ‘ডিবি এনেছিল’ এবার মোহাম্মদপুরে মদসহ মডেল মৌ আটক হেলেনার পর জননেত্রী পরিষদের দর্জি মনির এবার গ্রেপ্তার পিয়াসার বাসায় যা মিললো

যুক্তরাজ্যে কোভিড নিরোধক স্প্রে ‘ভলটিক’ উদ্ভাবন

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে সিলেটের বিশ্বনাথের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সাদিয়া খানম ‘ভলটিক’ নামক একটি কোভিড-১৯ নিরোধক স্প্রে আবিস্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে চেস্টারের বাসিন্দা।

বিশ্বনাথ উপজেলার নাজির বাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে তাদের পূর্ব পুরুষদের নিবাস। পিতা কবির আহমদ একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মা ফরিদা আহমদ একজন গৃহিনী। ২৫ বছর বয়সী তরুণী এই ‘ভলটিক’ স্প্রে আবিস্কার করেন। পাশাপাশি সাদিয়া তার বাবার রেস্টুরেন্ট ‘ক্যাফে ইন্ডিয়াতে’ কাজ করেন।

‘ভলটিক’ স্প্রে যেকোনো স্থানে ব্যবহারের সাথে সাথে সবধরনের প্যাথোজন (ভাইরাস, ভ্যাক্টেরিয়া, ফাঙ্গি ইত্যাদি) টেনে এনে মেরে ফেলতে সক্ষম। ‘ভলটিক’ স্প্রে কোনো স্থানে একবার ব্যবহার করলে ১৫দিন পর্যন্ত ওই জায়গায় সম্পুর্ণরূপে কেভিডমুক্ত থাকে।

যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলো বলেছে, ভাইরাস নিরোধে এই স্প্রে শতভাগ কার্যকর। তাছাড়া এই স্প্রে ব্যবহার করে হাসপাতালগুলোর প্রায় ৭০ পার্সেন্ট পরিচ্ছন্নতা খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।

২৫ বছর বয়সী সাদিয়ার ‘ভলটিক’ স্প্রে আবিস্কারের সাথে সাথে ইতোমধ্যে তিনি ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অর্ডার পেয়েছেন। এনএইচএস যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও কেয়ার হোমে পরীক্ষামূলকভাবে এই স্প্রে ব্যবহার করে সফল হয়েছে। নাসার ল্যাবে এই স্প্রে ব্যবহার হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাদিয়ার এই ‘ভলটিক’ স্প্রে পেতে বিশ্বের ১৩টি দেশ অর্ডার করেছে। মেডিকেল যন্ত্রপাতি, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, এয়ারলাইন্স ইন্ডাষ্ট্রি, আর্ম ফোর্সেস, নিউক্লিয়ার স্টেশনে ব্যবহার করা যায়।

সারাবিশ্ব কোভিড-১৯ এ জর্জরিত তাই তিনি রেস্টুরেন্টে কাজের পাশাপাশি কোভিড নিরোধক কিছু আবিষ্কার করতে গবেষণা শুরু করেন। রেস্টুরেন্টকে তিনি কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রায় ১৪ মাসের গবেষণার পর একসময় সাফল্য ধরা দেয়। তিনি আবিস্কার করে ফেলেন বিশেষ স্প্রে ‘ভলটিক’।

এরপর কলিন হেইগান নামক একজন সিনিয়র বিজ্ঞানীকে সঙ্গে নিয়ে এই স্প্রেকে আরো ডেভোলপ করেন। কলিন হেইগান সাদিয়ার এই অবিস্কার যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন।

সাদিয়া খানম তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত যে তাঁর এই স্প্রে বিশ্বজুড়ে ব্যবহার হবে। শুধু অর্থ উপার্জনই বড় কথা নয়; এটা মানুষকে কোভিড-১৯ মুক্ত জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে। স্প্রে থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি আলজাইমার রোগের ওপর অধিকতর গবেষণা করবেন এবং বিশ্বকে এই রোগের প্রতিষেধক দিতে পারবেন বলে আশাবাদী।

সাদিয়া খানমের পরিবার যুক্তরাজ্যের চেস্টারে বসবাস করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবা কবির আহমদ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মা ফরিদা আহমদ গৃহিনী। তাঁর দাদা আজমত আলী যুক্তরাজ্যে আসেন ১৯৬৪ সালে। সাদিয়ার বয়স যখন ১৪ বছর তখন তাঁর দাদা আলজাইমার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন তিনি সংকল্প করেন বড় হয়ে বিজ্ঞানী হবেন এবং আলজাইমার রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করবেন। ছোটকাল থেকেই তিনি বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁকে পড়েন। কিন্তু তাঁর বাবা প্রথমে তাঁকে স্থানীয় ব্লাকবার্ণ মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের শিক্ষাজীবন ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হোক। ব্লাকবার্ণ মাদ্রাসা থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে আলিমা কোর্সসহ জিসিএসই পাশ করেন। এরপর মানচেষ্টারের হলিক্রস সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে জিসিএসই, মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে বায়ো-মেডিকেলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে চেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে জেনেটিক্সে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আলজাইমার ও নিউরোডিজেনারেশন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সাদিয়া খানমের ছোট বোন জামিলা আহমদ কমার্শিয়াল ল’ নিয়ে পড়ছেন। ছোট ভাই হামজা আহমদের বয়স ৩ বছর। সাদিয়া সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামের শেখপাড়ার মৌলভী বাড়ির মরহুম আউয়ালের নাতনী।

এ বিষয়ে সাদিয়ার বাবা কবির আহমদ বলেন, আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনিই সবকে সব জিনিষ দেন না। আমার মেয়েকে এই স্প্রে আবিস্কারের জ্ঞান দিয়েছেন নিশ্চয় একটি কারণে। মেয়ের এই আবিস্কারের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের মানুষকে সাহায্য করতে পারবো-এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন। তিনিও ১৩ বছর যাবত অ্যালকোহলমুক্ত রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone