শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ট্রেনে সন্তান প্রসবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সবার  প্রশংসায় ডা.ফারজানা সিনোফার্মের আরো ৫৪ লাখ টিকা ঢাকায় তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক যুবকদের প্রতি সরকারের বিমাতা সুলভ আচরণে বেকারত্ব বাড়ছে : হানিফ বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে, ভোট সোমবার কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত বিনা ভোটেই জয়ের পথে ডা. প্রাণ গোপাল স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হচ্ছে সাউন্ডবাংলা-পল্টনড্ডা সাহিত্যসংগঠকদের সূতিকাগার বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট এর নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক গাবতলীর কাগইলে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদসভা ও মানববন্ধন ১৭ ই সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহের সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাজারহাটে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ঘর পাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খলিল গাইবান্ধায় পাঠাগারের উদ্বোধন করলেন কবিতা খানম

মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র খসে পড়ছে পলেস্তারা, ভীমে ধরেছে ফাটল, বর্ষায় ছাদ ছুঁেয় পানি পড়ে

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই
খসে পড়ছে পলেস্তারা, ভীমে ধরেছে বড় বড় ফাটল; বর্ষায় ছাদ ছুঁেয় পানি পড়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ৩৭ বছরের পুরনো ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। খসে পড়া পলেস্তারা পড়ে রোগী ও চিকিৎসকদের গায়ে। যেকোন সময় ধসে পড়তে পারে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ছাদ। তবে কবে নাগাদ এটি সংস্কার করা হতে পারে তাও জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
জানা যায়, অনেকটাই জোড়াতালি দিয়ে চলছে ১৯৮৪ সালের ২২ জুলাই স্থাপিত মিরসরাই উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠায় ইতিপূর্বে সংস্কারও করা হয়। এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা। দীর্ঘ ৩৭ বছর পুরনো এই ভবনের প্রতিটি কক্ষে বর্ষা মৌসুমে ছাদ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পানি পড়ে, পানি পড়ার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির আসবাবপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। বর্ষায় এখানে নিয়োজিত চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা প্রদান ও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নেওয়াটা অনেকটা অসম্ভব হয়ে উঠে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঘেঁষে ফেলা হয় পাশ্ববর্তী বাসাবাড়ীর ময়লা আবর্জনা, যাতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের। নেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবহারের পুরোপুরি অনুপযোগী টয়লেট, খসে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, ভীমে ধরেছে বড় বড় ফাটল; যেকোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে ছাদ। এখানে সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত সেবা প্রদান করা হয় রোগীদের। ৫ টি পদের মধ্যে ২ টি পদ শূণ্য রয়েছে। শূন্য পদগুলো হলো ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন এমএলএসএস। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাজমুন্নাহার, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা তমা দেবী ও ১ জন আয়া দিয়েই চলছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মাসে প্রায় ৬’শ জন সেবা গ্রহণ করে থাকেন। বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, বয়ঃসন্ধিকালীন সেবা, পুষ্টি সেবা, গর্ভবতী ও সাধারণ রোগী সেবা, প্রসব ও প্রসবোত্তর সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষামূলক সেবা দেওয়া হয়ে থাকে এখানে। এছাড়া ২৫ ধরণের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় রোগীদের।
একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা মহামারীর মধ্যে যেখানে চিকিৎসকরা চেম্বার করতে ভয় পেয়েছেন ঠিক তখনই জীবন বাজি রেখে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান একদিনের জন্যও বন্ধ রাখেননি হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাজমুন্নাহার। সেজন্য রোগীদের কাছে তিনি আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালনের পরবর্তী সময়গুলোতে মুঠোফোনে ও নিজ বাসায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যা ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও নজর কেড়েছে।
হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাজমুন্নাহার বলেন, সব সময় ভয়ে ভয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকি, এমনিতেই ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ে শরীরে, যেকোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে ছাদও। তাই স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবনটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবহিত করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে আমি যখন থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত কখনো দায়িত্বে অবহেলা করিনি। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন সেবাসমূহ দিয়ে যাচ্ছি।
মিরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হোসেন জানান, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির ছাদ যেকোন সময় ধসে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ইতিপূর্বে সংস্কারও করা হয়েছে। আমি ২০১৬ সালে এই উপজেলায় চাকুরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বারবার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার করার জন্য হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি শীঘ্রই ভবনটি সংস্কারে বরাদ্ধ পাবো।
তিনি আরো জানান, ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাজমুন্নাহার করোনার শুরু থেকে রোগীদের সেবা প্রদানে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন যা আমাদের তদারকিতে প্রমাণ মিলেছে। একদিকে করোনার ঝুঁকি অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদের নিচে বসে তিনি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone