শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ রাষ্ট্রের কোন সরকারই সমালোচনা পছন্দ করে না : জেবেল  কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ! তানোরে ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের কপাল পুড়লো  দেশে ফিরেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১ তানোরে ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের কপাল পুড়লো  রিশিকুলকে মডেল ইউপিতে রুপান্তর করতে চাই, চেয়ারম্যান টুলু ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে: টিক্যাব ডেঙ্গু দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ : রোগী কল্যাণ সোসাইটি দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাইকেল পার্কিং এর সুব্যবস্থা রাখতে হবে সরকারি দখলকৃত জায়গা উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণের দাবি জানালো সবুজ আন্দোলন ৯০ কৃষককে কৃষি উপকরণ দিলো রাবির শিক্ষার্থীরা গণমানুষের মুক্তি সংগ্রামে সাহসী নেতা জেবেল : রীবন বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইউএনও’কে বিদায় সংবর্ধনা

এক টাকার শিক্ষক

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: টাকা উপার্জন করার উদ্দেশ্যে নয় শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য ৪৪ বছর আগে দিনে এক টাকা ফি নিয়ে শিক্ষার্থী পড়ানো শুরু করেন লুৎফর রহমান। এর মধ্যে কত কিছুর দাম বাড়ল। কিন্তু লুৎফরের প্রাইভেট পড়ানোর ফি আর বাড়েনি। এলাকার লোকজনের কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন এক টাকার মাস্টার নামে। লুৎফরের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাগুড়িয়া গ্রামে। ৭০ বছর বয়সের মানুষটি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। কিন্তু পাঠদানের উৎসাহ এতটুকু কমেনি। এখন দিনে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়ান তিনি। লুৎফর রহমান বলেন এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষ গরিব। ছেলেমেয়েদের পড়াতে চান না। প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। তাই তিনি নামমাত্র ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। এতে তাঁর তেমন লাভ না হলেও গরিব মানুষের ছেলেমেয়ে শিক্ষিত হচ্ছে। এটাই তাঁর লাভ। জেলা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাগুড়িয়া। এ গ্রামের ভেতর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। বাঁধের দুই ধারে নদীভাঙ্গা মানুষের বাস। বেশির ভাগ মানুষের একচালা টিনের ঘর। এ গ্রামে লুৎফর রহমানের বাড়ী। বাড়ীর আঙিনায় শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন লুৎফর রহমান। প্রতিদিন সকালে পড়ানো শুরু করেন তিনি। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। চার দফায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৩৫ জনকে পড়ান। একেক ব্যাচকে প্রায় দুই ঘণ্টা করে পড়ানো হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লুৎফর রহমান স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে তারা। এখানে পড়তে টাকাপয়সা তেমন লাগে না। এ কারণে বাবা-মায়েরাও পড়তে পাঠান। পড়াশোনা ভালো হচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন লুৎফর রহমান ১৯৭০ সালে ফুলছড়ি উপজেলার গুনভড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস। ১৯৭৫ সালে তিনি বিয়ে করেন। তখন তিনি ২৬ বছরের তরুণ। চাকরি না পেয়ে তিনি টিউশনি শুরু করেন। গরিব ও অবহেলিত এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। লুৎফর রহমান বলেন যত দিন সুস্থ থাকব, তত দিন পাঠদান করে যাব। লুৎফর রহমানের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে লাভলু মিয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালান। ছোট ছেলে মশিউর রহমান লেখাপড়া করে। বড় ছেলে অটোরিক্সা চালিয়ে সংসারের জোগান দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone