শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ট্রেনে সন্তান প্রসবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সবার  প্রশংসায় ডা.ফারজানা সিনোফার্মের আরো ৫৪ লাখ টিকা ঢাকায় তানোরে আমণখেতে পোকার আক্রমণ  দিশেহারা কৃষক যুবকদের প্রতি সরকারের বিমাতা সুলভ আচরণে বেকারত্ব বাড়ছে : হানিফ বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে, ভোট সোমবার কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত বিনা ভোটেই জয়ের পথে ডা. প্রাণ গোপাল স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হচ্ছে সাউন্ডবাংলা-পল্টনড্ডা সাহিত্যসংগঠকদের সূতিকাগার বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট এর নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক গাবতলীর কাগইলে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদসভা ও মানববন্ধন ১৭ ই সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহের সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাজারহাটে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ঘর পাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খলিল গাইবান্ধায় পাঠাগারের উদ্বোধন করলেন কবিতা খানম

আত্রাইয়ে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির ঘর

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি : কালের আবর্তে নওগাঁর আত্রাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন মাটির তৈরি ঘর। এখন তেমন একটা আর চোখে পড়েনা গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় মাটির তৈরি বাড়ি (ঘর)। যা এক সময় ছিল গ্রামের মানুষের কাছে মাটির বাড়ি বা ঘর গরিবের এসি বাড়ি নামে পরিচিত।

বেশি দিনের কথা নয়, বাংলার প্রতিটি গ্রামে নজরে পরতো এই মাটির বাড়ি ঘর। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশা-পাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি বাড়ি ঘর। এসব মাটির বাড়ি ঘর আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর সময়ের পরিবর্তে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি ঘর বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই বাড়ি ঘর শীত ও গরম মৌসুমে আরামদায়ক বলে গ্রামের অনেক বিত্তবানও এই মাটির দ্বিতল বাড়ি ঘর তৈরি করেন।

জানা যায়, অতি প্রাচীনকাল থেকেই মাটির বাড়ি বা ঘরের প্রচলন ছিল। গ্রামের মানুষের কাছে এই বাড়ি বা ঘর ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। গ্রামের বিত্তবানরা এক সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে মজবুত মাটির দ্বিতল বাড়ি ঘর তৈরি করতেন। যা এখনও কিছু কিছু গ্রামে চোখে পড়ে। এঁটেল বা আঠালো মাটির কাঁদায় পরিণত করে ২-৩ ফুট চওড়া করে দেয়াল বা ব্যাট তৈরি করা হয় ১০-১৫ ফুট উঁচু। দেয়ালে কাট বা বাঁশের শিলিং তৈরি করে তার ওপর খর বা টিনের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির বাড়ি ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। সব ঘর বড় মাপের হয়না। গৃহিনীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির বাড়ি ঘরের ক্ষতি হয় বলে বর্তমান সময়ে দীর্ঘ স্থায়ীত্বের কারণে গ্রামের মানুষরা ইটের বাড়ি নির্মাণের আগ্রহী হচ্ছেন। ভূমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি একটি মাটির বাড়ি শত বছরেও বেশি স্থায়ী হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে কালের বিবর্তনে ইটের দালানকোটা আর বড় বড় অট্রালিকার কাছে হার মানছে মাটির বাড়ি ঘর।

উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার, ভবানীপুরের রমজান আলী, রসুলপুর গ্রামের মোবারক আলী, হাতিয়াপাড়া গ্রামের হাফিজুল, আয়তালী ও আব্দুস সামাদসহ আরো অনেকে জানান, মাটির তৈরি এই বাড়ি ঘর তারা পেয়েছেন পৈত্রিক ভাবে। তাদের পূর্ব পুরুষরাও এই মাটির তৈরি বাড়িতেই জীবন কাটিয়ে গেছেন। তাই এখনও তারা এই বাড়িগুলো ভাঙ্গেনি। মাটির বাড়ি বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশ মাটির বাড়ি ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় দীর্ঘ স্থায়ী ভাবে অনেক লোকের নিবাস কল্পে গ্রামের মানুষরা ইটের বাড়ি ঘর তৈরি করছেন বলে অনেকের ধারনা। #

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone