মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মাহফুজুর রহমানকে ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন ইভা রহমান তানোর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে গাছ নিধনের অভিযোগ নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেনসিডিল সহ আটক ১ আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হাতে ভুয়া লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আটক বরিশালে অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণ সাপাহারে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া দাবী আদায় হবে না : যুব জাগপা ভূমি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচার  কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাড়ি ভিটে দান করে দিতে চান এক পরিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের চিঠি অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের ১৫ বছর কারাদণ্ড ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলিতে আ.লীগ নেতাসহ নিহত ২ কী অভিযোগে ব্যাংক হিসাব তলব, জানতে চান সাংবাদিকরা রাস্তা-ভবন নির্মাণে ইটের গুণগত মান নিশ্চিতের নির্দেশ

সেই ১৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত চক্রান্ত চলছে

নেতারা যদি তৎকালীন পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারতেন তাহলে হয়তো পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের আঘাত আসত না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ পু্র্নগঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ একদিকে করা, অপরদিকে একটি দেশ, যে দেশটি ছিল পাকিস্তান নামের একটি দেশের একটা প্রদেশ। আর যে ভূখণ্ডটা চিরদিন বিদেশীদের তারাই এদেশের রাজত্ব করেছে। সেই দেশটাকে একটা দেশ হিসেবে, একটা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা-এই কঠিন কাজ মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) করে গিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর দেশ শাসনকালে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেই সময় নানা চক্রান্ত চলেছে-এখনও চলছে। পাটের গুদামে আগুন, থানা লুট করা, আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাতজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করা। যারা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, আলবদর বাহিনী অনেকেই দেশ ছেড়ে ভেগে গিয়েছিল। অনেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিল। আন্ডারগ্রাউন্ড বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারা একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে শুরু করে।’

ওই সময়কার পরিস্থিতি তখনকার রাজনৈতিক নেতাদের উপলব্ধিতে আসেনি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তখনকার যে একটা অবস্থা সেই অবস্থা বুঝতেই পারেনি। একটা দেশ দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিল, শোষিত ছিল তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করা হয়েছে। তারা এত সহজে ছাড়বে না। তাদের দোসররা ছিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আর তাদের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত অব্যাহত থাকবে-এই উপলব্ধিটা তখনকার দিনে আমাদের অনেক রাজনৈতিক নেতার মধ্যেও আসেনি। তাই তারা এটা হয় নাই, ওটা হয় নাই-নানা ধরনের প্রশ্ন, কথা, লেখালেখি অনেক কিছু শুরু করেছিল।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ক্ষত-বিক্ষত একটা দেশ, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু একটা দেশ, সেই দেশটাকে গড়ে তোলা যে অত্যন্ত কঠিন-দুরূহ কাজ। এটা যে একদিনেই, একটা কথায় গড়ে ওঠে না-এই উপলব্ধিটা যদি সকলের মাঝে থাকত তাহলে হয়তো ১৫ আগস্টের মতো এত বড় একটা আঘাত এ দেশের ওপর আসত না। তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তখন কেউ সেই উপলব্ধিটা করে নাই, এটা উপলব্ধি করতে অনেক সময় লেগেছিল তাদের। কেন তারা উপলব্ধি করতে পারে নাই, আমি জানি না। এর মধ্যে অনেক জ্ঞানী-গুণী অনেকেই আছেন।’

বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘বাহাত্তর সালের পর থেকে পঁচাত্তর সাল পর্যন্ত অনেক লেখালেখি আছে। কেউ যদি একবার চোখ বুলান, পড়েন তখন দেখবেন কত ভুল সিদ্ধান্ত এবং ভুল কথা তারা বলে গিয়েছিলেন আর সেই খেসারতটা জাতিকে দিতে হলো পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল সেই আলবদর, রাজাকার, আলশামস এবং পাকিস্তানি বাহিনীর দালাল-দোসর তাদের হাতে চলে গেল ক্ষমতা। তাদের হাতে যে ক্ষমতা চলে গেছে সেটাও বোধহয় অনেকে উপলব্ধি করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে, হত্যা করেছে।

‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা বিরোধিতা করেছিল, যারা কখনও বাঙালি জাতি মাথা তুলে দাঁড়াক তা চায়নি, যারা কখনও বাঙালি জাতির অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে চায়নি, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকারটুকু কেড়ে নিতে চেয়েছিল তাদেরই চক্রান্ত ছিল। কারণ বাঙালি জাতির বিজয় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, এই বিজয় এরা কখনোই মেনে নিতে পারেনি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরা যেমন ওই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী, যারা সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষের রক্ত নিয়েছে, গুলি করে হত্যা করেছে তাদের দালালি করেছে, বাঙালি হয়ে তারা ওই পাকিস্তানি হানাদার বা সামরিক শাসকদের পদলেহন করেছে। তাদের তোষামোদি করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাদের স্বরূপ উদঘাটিত হয়েছে। তারা গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে…একটা জাতিকে সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল।’

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ওই এক বছর বাংলাদেশে এক ফোটা ফসল উৎপাদন হয়নি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার কোনো পথ ছিল না। সকল শিল্প-কলকারখানা সব বন্ধ ছিল। একটা দেশ সম্পূর্ণভাবে অচল। শুধুমাত্র ওই হানাদার বাহিনীর আক্রমণে গ্রামের পর গ্রাম শুধু ধ্বংস, জ্বালানো, পোড়ানো। নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিল বাঙালির রক্তে।

‘সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যখন ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা ফিরে এসে দায়িত্ব ভার নিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এই সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যেখানে এক ফোটা খাদ্য গোলায় ছিল না, এক টাকা রিজার্ভ মানি নেই। কারেন্সি নোট নেই, রাস্তা ঘাট, রেল, স্কুল-কলেজ সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত। আর লাখো শহীদের কান্না, পরিবারগুলো আর নির্যাতিত মা-বোন, আহত মুক্তিযোদ্ধা, আহত সাধারণ মানুষ তাদের পুর্নবাসন। তিন কোটি গৃহহারা মানুষের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা, শরণার্থীদের পুর্নবাসন’-যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone