বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশে এলো অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরো ৬ লাখ ডোজ টিকা দর্জি মনিরের ফটোশপ তেলেসমাতি, বড় নেতা সেজে চাঁদাবাজি উচ্চাভিলাষী নষ্ট নারীতে সমাজ আজ কলুষিত খেলা শেষে টাইগারদের সাথে হাতও মেলালেন না অসিরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নের ‘দুর্নীতি’: তদন্ত চেয়ে রিট টাইগারদের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন টি-টোয়েন্টিতে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় দিনাজপুর বিরামপুরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন নড়াইলে ডিসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ২৫ হাজার টাকা জরিমানা   এমপি ফারুক চৌধুরীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজধানীতে ৩৫৪ গ্রেপ্তার, ৫৩২ গাড়িকে জরিমানা করোনায় আরো ২৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৭৭৬ বগুড়ার কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশ উদ্ধার ইন্দুরকানীতে পানিতে ডুবে ভাই বোনসহ তিন জনের মৃত্যু জলাবদ্ধতার ফলে খানসামার রামনগরে পুকুরে পরিণত ৫০ বিঘা আবাদী জমি, ব্যাহত চাষাবাদ

সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সে-কাল, এ-কাল

নাজমুল হক নাহিদ, নওগঁ প্রতিনিধি: সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্্েরর এ-কাল ও সে-কালের মধ্যে ব্যাপক ব্যাবধান লক্ষ করা গেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটি তার স্ব-গৌরবে মাথা উঁচু করে জেলার সবকটি কমপ্লেক্্রকে ছাড়িয়ে আপন গতিতে চলছে। এখানে কর্মরত ক’জন চিকিৎসকই নিরলসভাবে তাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে চলেছে।
পাকিস্তান পিরিয়ড থেকে ছোট পরিসরে চিকিৎসা সেবা চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটিতে ২০০৫ সালে নতুনত্ব ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। এর পর হতে বহু ডা: আসে যায় কিন্ত উপজেলাবাসীর চিকিৎসা ঘাটতি যেন লেগেই থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঔষধ চুরি, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি চুরি চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবায় অনিহাভাব, রুগির সাথে দুর্ব্যাবহার সহ নানবিধ অভিযোগ লেগেই থাকত এক সময়ে।
অতীতে বহু সময়ে হাসপাতালের ইনডোরে দুর্গন্ধে কোন সুস্থ্য মানুষ প্রবেশ করলে যেন সেই রুগী হয়ে যাবে এইরকম অবস্থা বিরাজ করত। সহজে মানুষজন তাদের রুগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে চাইত না। হাসপাতালের ইন-ডোর, আউট-ডোর সহ পারিপার্শিকতার পরিবেশ ছিল নোংরা। হাসপাতালে কোন রোগের চিকিৎসা হয় মানুষ সেটা মনেই করত না।
বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটিতে রুহুল আমিন নামের একজন পরিশ্রমী ডাক্তার (হৃদরোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করার পর আ’মুল পরিবর্তন হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর। তিনি এখানে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করার পর এক দম ঢেলে সাজিয়েছেন কমপ্লেক্্রটি। প্রথমে তিনি হাসপাতালটির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন কাজে মনোযোগ দিয়ছেন, হাসপাতালের ভিতর বাহির সকল স্থানের ময়লা দুর্গন্ধ দুরীকরণ করে চাকচিক্য করে তুলেছেন। এর জন্য তিনি সরকারের প্রকল্প বা ফান্ট এর তোয়াক্কা না করে নিজ উদ্যোগে ফান্ট তৈরী করেছেন অনেকে তার সেই ফান্ডে আর্থিক সহযোগীতা করেছেন।
ফলে সহজেই তিনি সেই অর্থ দিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ যেমন, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ক্যাবিনের ব্যাবস্থা, রুগীদের খাবার দাবরের জন্য একটি ডাইনিং এর ব্যাবস্থা, শিশুদের স্তন্য পানের জন্য আলাদা ক্যেবিনের ব্যাবস্থা, বড় সড় স্পেজের একটি ডেলীভেরী রুমের ব্যাবস্থা, প্রসূতি মা ও সদ্য প্রসুত শিশুর জন্য আলাদা আই-সি ইউ এর মত আলাদা রুমের ব্যাবস্থা, রোগীদের সিরিয়্যাল অনুযায়ী টিকেট ও চিকিৎসার জন্য সারিবদ্ধ লাইনের ব্যাবস্থা, হাসপাতালের পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন সারাক্ষন অডিও এর মাধ্যমে প্রচার প্রচারণার ব্যাবস্থা সর্বপরি সরকারী যে ঔষধ পত্রগুলি হাসপাতালে আসে তার সু-সম বন্টনের ব্যাবস্থা। প্রতিদিন তিনি হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে তার অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে ফাঁকে সর্ব স্তরে পায়চারীর মাধ্যমে সকল ব্যাবস্থা সঠিক নিয়মে চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখে থাকেন। ডাক্তার রুহুল আমিনের তত্বাবোধানে সাপাহার হাসপাতালটি এখন জেলার অন্যান্য হাসপালের চেয়ে বহুগুনে ভালভাবে চলছে।
অতীতে যে হাসপাতালে কয়েক জন রোগীর পর আর রোগী খুজে পাওয়া যেতনা বর্তমানে এখন সেখানে রোগীর সারিবদ্ধ লাইন চোখে পড়ার মত। প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর জটলা লেগেই আছে হাসপাতালটিতে। সরকারী ঔষধ ও দেয়া হচ্ছে প্রায় সকল রোগীদের ঔষধ পত্র পেয়ে খুশী রোগী ও রোগীর লোজনেরা। চিকিৎসা সেবার মান্নোয়ন ঘটায় প্রতি দিন সকাল হতেই হাসপাতালের গেট খোলার পূর্ব থেকেই রোগীরা লাইনে সিরিয়্যাল দিয়ে বসে থাকছেন গেটের বাহিরে হাসপালটি যেন ফিরে পেয়েছে তার চাঞ্চ্যল্যতা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর কর্মকর্তা ডা:রুহুল আমিন জানান যে, প্রতিদিন ইনডোরে ৪০ থেকে ৪৫জন রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন, জরুরী বিভাগে প্রতিমাসে গড়ে ১১শ’ থেকে ১২শ” রোগী তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন, এছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে ৩শ’থেকে সাড়ে ৩শ” জন রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটিতে বহু পূর্বে একটি অত্যাধুনিক এক্্র-রে মেশিন থাকলে অনেক আগে থেকেই সেটি বিকল হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে ডা: রুহুল আমিন সেটিকে তার উদ্যোগে সারিয়ে তুলেছেন উপজেলার বিভিন্ন রোগীরা এখন সরকারী স্বল্প খরচে সেখানে যে কোন ধরনের এক্্র-রে করতে পারছেন এবং তিনি তার সম্পূর্ন ব্যক্তিগতভাবে একটি ই-সি-জি মেশিন দান করেছেন, স্বল্প খরচে যে কোন হৃদ-রোগের রুগীরা সেখানে ই-সি-জি করাতে পারছেন। মানুষ মানুষের জন্য এই মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি কমপ্লেক্্রটিতে একটি মানবতার দেয়াল স্থাপন করেছেন। ইতোমধ্যেই অসংখ্য মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সেই মানবতার দেয়ালে। অনেক গরীব দু:খী মানুষও সেখান থেকে তাদের পছন্দের বিভিন্ন পোষাক পরিচ্ছেদ নিতে পারছেন অনায়াসে।ভাল কাজের জন্য তিনি ইতোমধ্যে নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে সম্মাননা পদকও পেয়েছেন। উপজেলাবাসী ও উপজেলার অভিজ্ঞমহল সহ সর্বস্তরে এখন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটির সেকাল-একাল নিয়ে। উপজেলাবাসীর চাওয়া পাওয়া ভবিষ্যতে যেন এভাবেই চলতে থাকে কমপ্লেক্্রটি। #

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone