মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মাহফুজুর রহমানকে ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন ইভা রহমান তানোর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে গাছ নিধনের অভিযোগ নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ফেনসিডিল সহ আটক ১ আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হাতে ভুয়া লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আটক বরিশালে অসহায় মানুষের মাঝে চেক বিতরণ সাপাহারে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া দাবী আদায় হবে না : যুব জাগপা ভূমি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচার  কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাড়ি ভিটে দান করে দিতে চান এক পরিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের চিঠি অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের ১৫ বছর কারাদণ্ড ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলিতে আ.লীগ নেতাসহ নিহত ২ কী অভিযোগে ব্যাংক হিসাব তলব, জানতে চান সাংবাদিকরা রাস্তা-ভবন নির্মাণে ইটের গুণগত মান নিশ্চিতের নির্দেশ

মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় ঝিনাইদহের হলিধানী ইউনিয়নের আ’লীগ সভাপতি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার-২

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
আ’লীগ সভাপতিসহ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার আব্দুর রশিদ মিয়া ও রাজাকার শাহেব আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে সদরের নারায়নপুর ত্রীমোহনী থেকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ ওয়ারেন্টের ভিত্তিত্বে তাদের গ্রেফতার করে। আ’লীগ নেতা মিয়া আব্দুর রশিদ এ সময় ডাকবাংলা চালকল মালিক সমিতির নির্বাচন পর্যবেক্ষন করছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকা হলিধানী ইউনিয়নের মেম্বর মতিয়ার রহমান ও সাগান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, দুপুরের দিকে সাদা পোশাকের একদল লোক আব্দুর রশিদকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা তাদের চিনতে পারিনি। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, মানবতা বিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুয়ায়ী আব্দুর রশিদ ও শাহেব আলী নামে দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য আশির উদ্দীন তার এলাকার ৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। যার নং ঝি/সি ৭৯/০৯। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে সে সময় মামলাটি আপোষরফা করতে বাধ্য হন মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীন। অভিযোগ পত্রে আশির উদ্দীন উল্লেখ করেন, ৭১ সালে পাকিস্থানী পক্ষ ত্যাগ করে জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি দেশ স্বাধীনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেন। এ খবর জানতে পেরে রাজাকার মসলেম উদ্দীন, আব্দুর রশিদ, আলাউদ্দীন, হাকিম আলী খোন্দকার, শাহজাহান, আসমত ও শাহেব আলীসহ ৫০ জন রাজাকার কোলা গ্রামে তার বাড়ি ঘেরাও করে। আশির উদ্দীন ও তার আরেক ভাই মহিরুদ্দীন এ সময় কাশিপুর গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। রাজাকাররা তাদের দুই ভাইকে না পেয়ে বড় ভাই আজিবর মন্ডল, হবিবার মন্ডল ও আনসার মন্ডলকে ধরে নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের ব্রীজের নিচে হত্যার পর লাশ গুম করে। আসামীরারা এ সময় তাদের ৫টি ও পাশ্ববর্তী গ্রামের আরো ২৫টি বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বলিয়ে দেন। রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে বৃদ্ধ পিতা দুখি মাহমুদ ও মা কামিনী খাতুনকে। মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীনের মৃত্যুর পর তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন দেশে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে আরেক দফা অভিযোগ করেন বলে তাদের পারিবারিক সুত্রে বলা হয়েছে। গত ৯/১০ মাস আগে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল থেকে তদন্তে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর জালিয়ে দেওয়া ও স্বজনদের হত্যার প্রমান সংগ্রহ করে। অভিযোগ পাওয়া গেছে দেশ স্বাধীনের পর আইডিএল, জামায়াত, চরমপন্থি সংগঠন হক গ্রুপ, সর্বহারা ও সর্বশেষ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন রাজাকার আব্দুর রশিদ। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে রাজাকার থেকে রাতারাতি আওয়ামীলীগার হয়ে নৌকা প্রতিকে ইউপি নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তার দুই ছেলে হারুন ও বজলুর রশিদও যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তারাও খুব বেপরোয়া চলাফেরা করেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। এলাকায় কথিত আছে চাঁদাবাজী, ইয়াব, অস্ত্র ব্যাবসা ও শালিস বিচারের নামে কোটি কোটি সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন এই রাজাকার পরিবার। তাদের অত্যাচারে হলিধানী ইউনিয়নের মানুষ এক রকম অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। গুজব আছে আওয়াীলীগকে সিড়ি বানিয়ে ঝিনাইদহ, ঢাকা ও ভারতেও বাড়ি তৈরী করেছে রাজাকার আব্দুর রশিদ। এ বিষয়ে আব্দুর রশিদের বড় ছেলে হারুন অর রশিদ জানান, কে বা করা আমার পিতাকে ধরে নিয়ে গেছে তা আমি বলতে পারি না। তবে ঝিনাইদহের কোন জায়গায় খুঁজে আমি আমার পিতার সন্ধান পায়নি। সাবেক ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন জানান, দুই রাজাকার গ্রেফতার বা আর্ন্তজাতিক ট্রাইব্যুনালে কোন মামলার খবর তিনি জানেন না। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় আব্দুর রশিদ ও শাহেব আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone