শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১ তানোরে ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের কপাল পুড়লো  রিশিকুলকে মডেল ইউপিতে রুপান্তর করতে চাই, চেয়ারম্যান টুলু ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে: টিক্যাব ডেঙ্গু দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ : রোগী কল্যাণ সোসাইটি দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাইকেল পার্কিং এর সুব্যবস্থা রাখতে হবে সরকারি দখলকৃত জায়গা উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণের দাবি জানালো সবুজ আন্দোলন ৯০ কৃষককে কৃষি উপকরণ দিলো রাবির শিক্ষার্থীরা গণমানুষের মুক্তি সংগ্রামে সাহসী নেতা জেবেল : রীবন বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইউএনও’কে বিদায় সংবর্ধনা দক্ষিণাঞ্চলে কমেছে করোনা বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সাংবাদিক মাসুদের বিরুদ্ধে সেই দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের জিডি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের হারবিন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির চুক্তি নোয়াখালীতে বরযাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু-১, আহত-১২

নলছিটির বিষখালী নদীতে সুমন খলিফার নেতৃত্বে ইলিশ নিধনের মহোৎসব * উপজেলা প্রশাসনকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ *

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো \ ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু থাকলেও নতুন কৌশলে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারে মেতে উঠেছেন অধিক মুনাফালোভী কতিপয় অসাধু জেলেরা এবং নলবুনিয়া খেয়াঘাট এলাকার সুমন খলিফার সিন্টেকেট। তারা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে কৌশলে ইলিশ শিকারের জন্য নদীতে ফেলে রাখা অবৈধ কারেন্ট জাল ডুবন্ত অবস্থায় ফেলে নদীর পাড়ে জালের রশি রেখে মা ইলিশ শিকার করছেন।ফলে ইলিশ প্রজনন মৌসুম হুমকির মুখে পরেছে।
নদীর পাড়ের একাধিক বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবছর জেলেরা ভিন্নকৌশল নিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার করছে। গত বছর প্রশাসন দেখলেই জেলেরা আর নদীতে জাল নিয়ে নামতেন না। কিন্তু এবছর জেলেরা কৌশল পরিবর্তন করে এককজন জেলে একাধিক জাল নিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারে নদীতে নেমেছে। প্রশাসন নদী থেকে জাল জব্দ করে নিয়ে আসলেও পরবর্তীতে আবার নতুন জাল নিয়ে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে।সরেজমিনে ঝালকাঠি জেলাসহ নলছিটি উপজেলার মাটি ভাঙা,ভবানীপুর,হদুয়া,ভেরন বাড়িয়া,নলবুনিয়া,ইসলামাবাদ,চরগজালিয়া,তেতুল বাড়িয়া ফেরিঘাট,তেতুল বাড়িয়া লঞ্চঘাট,এলাকায় অসাধু কিছু জেলেরা স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে মাছ শিকার করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে নলছিটি উপজেলা প্রশাসন নলবুনিয়া খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা কালে স্থানীয় বখাটে মো: সুমন খলিফা, জুরান,ইসমাইল সহ কতিপয় জেলেরা পরিকল্পিত ভাবে উপজেলা প্রসাশন কে ট্রলারে দেখে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।এসময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো: কবির হোসেন খলিফা এবং আলমগীর হোসেন খলিফার সহায়তায় অল্পের জন্য রাক্ষা পায় থানা পুলিশসহ উপজেলা মস্য কর্মকর্তা।নলবুনিয়া ও পয়সাবুনিয়া এলাকায় সুমন খলিফার রাম রাজত্বে চলছে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। একদিকে প্রশাসন টহল দিচ্ছে অপরদিকে আবার সুমনের মোবাইল ফোনের নির্দেশে নদীতে জাল নিয়ে নেমে পরছে জেলেরা এমনই অভিযোগ স্থানীয় জনসাধারনের।স্থানীয় জেলেদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, প্রকৃত জেলেরা সরকারের নির্দেশনা মতো ইলিশ শিকার বন্ধ রাখলেও বসে নেই অধিক মুনাফালোভী কতিপয় জেলেরা এবং নব্য নেতা প্রকৃতির জেলেরা। তারা নৌকা ট্রলারে দেশীয় অস্ত্র,লাটি সোটা,এবং ইটপাটকেল নিয়ে নদীতে মহরায় থাকেন ।কোন প্রসাশন কিংবা পুলিশ আসলে নদীতে বসে জেলেদের সর্তর্ক করে দেয়।এমন কি তারা পুলিশ প্রসাশন কে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রেখেছে।অপর দিকে চরইসলামাবাদ এলাকায় স্কুল শিক্ষক কাইয়ুব বাদশার নির্দেশনায় তার ছেলেরা সহ একটি সিন্ডেকেটের মাধ্যমে মাছ ধরে বাকেরগঞ্জের,চামটা এলাকার কয়েকজন দালালের মাধ্যমে মাছ বিক্রি করছেন খুব কৌশলে।তিনি তার বাদশাহী রাজত্বে চালাচ্ছেন ইলিশ মাছ ধরা প্রক্রিয়া।এলাকার সচেতন মহলের দাবী স্কুল ফাকি দিয়ে তিনি নদীর কিনারায় দাড়িয়ে তার ছেলেদের মাছ ধরায় উসাহিত করছেন ।
জেলার মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর থেকে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন নদীতে টহল অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জেলেরা নদীতে জাল রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে ধরা যাচ্ছেনা। তবে ইলিশ প্রজনন মৌসুম সফল করার জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে বিষখালী নদীতে অভিযান পরিচালনাকারী কয়েকজন কর্মকর্তা জানান,প্রশাসনের টহলের ট্রলার দেখলেই নদীতে জাল ডুবিয়ে কিংবা কেটে দিয়ে দ্রুত নৌকা নিয়ে ছোট খালের মধ্যে ঢুকে পরে জেলেরা।রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো:মাসুদুর রহমান সালামের ওই এলাকায় নিজ অর্থায়নে নদীতে টহল অব্যাহত থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ষড়যন্তে লিপ্ত হয়েছেন একটি কু চক্রিমহল।তিনি তার নিজের জনবল তার পরিষদের ইউপি সদস্য ও চৌকিদার নিয়ে অবরোধের প্রথম দিন থেকে ৭টি নৌকা এবং কয়েক হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রেখেছেন ।চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান সালাম জানান,সাংবদিক ও উপজেলা প্রশাসন কে সাথে নিয়ে জনসম্মুখে অবৈধ জাল পুরে ফেলা হবে।এবং অবোরোধ শেষে যার নৌকা তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। নলছিটি উপজেলা মস্যকর্মকর্তা বলেন, মা ইলিশ নিধন বন্ধে স্ব-স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় জেলেদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের মাধ্যমে একটু সচেতন করে তুললেই ইলিশ প্রজনন মৌসুম আরও সফল হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone