বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশে এলো অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরো ৬ লাখ ডোজ টিকা দর্জি মনিরের ফটোশপ তেলেসমাতি, বড় নেতা সেজে চাঁদাবাজি উচ্চাভিলাষী নষ্ট নারীতে সমাজ আজ কলুষিত খেলা শেষে টাইগারদের সাথে হাতও মেলালেন না অসিরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নের ‘দুর্নীতি’: তদন্ত চেয়ে রিট টাইগারদের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন টি-টোয়েন্টিতে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় দিনাজপুর বিরামপুরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন নড়াইলে ডিসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ২৫ হাজার টাকা জরিমানা   এমপি ফারুক চৌধুরীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজধানীতে ৩৫৪ গ্রেপ্তার, ৫৩২ গাড়িকে জরিমানা করোনায় আরো ২৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৭৭৬ বগুড়ার কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশ উদ্ধার ইন্দুরকানীতে পানিতে ডুবে ভাই বোনসহ তিন জনের মৃত্যু জলাবদ্ধতার ফলে খানসামার রামনগরে পুকুরে পরিণত ৫০ বিঘা আবাদী জমি, ব্যাহত চাষাবাদ

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে

জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর চাঁদা দাবির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

আজ শনিবার সাভারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বহুদিন পর ভালো একটি গল্প পড়লাম। আমার আর কিছু বলার নেই। একেবারেই বানোয়াট গল্প। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো কথা তাদের সঙ্গে আমার হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) তাদের মতো করে কাজ করে। কোথায় কাজ করে, কী কমিশন পায়, কী পায় না পায় সেগুলো জানতে চাওয়াতে আমি তাদের বলেছি, আমার সঙ্গে টাকা পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ তোমরা করবে না। তোমরা যেটা করতে চাও তা তোমরা নিজেদের মতো করো, তোমাদের মতো চলো। আমার সঙ্গে এগুলো করো না। এটুকুই ছোট কথা। আর তারা একটা গল্প বানিয়েছে।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমার বিশ্বাস দেশের প্রধান জানেন, তারা গল্প বানিয়েছে, নাকি আমি বানিয়েছি। আর তদন্ত করলে, যে কোনো ধরনের অনুসন্ধান করলে আপনারাও জানতে পারবেন যে, এ ধরনের কিছু হয়েছে কি না। আমার আর এর বেশি কিছু বলার নেই।

দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যবিরোধী আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১,৪৪৫কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে পাঁচটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্মাণকাজের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করেন প্রকল্প পরিচালক। গত ৩০জুন উপাচার্য হলগুলোর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ছাত্রলীগের টেন্ডার ছিনতাই, অস্বচ্ছ-অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান, গাছ কাটা নিয়ে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য ও তার পরিবারের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও জাবি ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে, গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলে গত ২৫ আগস্ট থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন জোরালো হয়। উপাচার্য, উপাচার্যপন্থী শিক্ষকমহল এবং জাবি ছাত্রলীগ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নেই দাবি করে গণমাধ্যমের খবর ‘ভিত্তিহীন’আখ্যা দিয়ে আসছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান মহাপরিকল্পনার ৪-৬ শতাংশ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে পরবর্তীতে উপাচার্যের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ হয়।

খবরে বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে- এমন কোম্পানির কাছ থেকে ভিসিকে টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন শোভন ও রাব্বানী। কিন্তু ভিসি তাতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে দুই নেতা শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেন।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শোভন-রাব্বানীর ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের পদ থেকে দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করতে পারেন বলেও সংবাদ প্রকাশ হয়।

এর প্রেক্ষিতে গোলাম রাব্বানী চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ঈদুল আজহার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে উপাচার্য আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন।

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানীর এমন বক্তব্যকে ‘অসত্য‘ ও ‘মিথ্যা’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ থেকে পৃথক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ বলেছে, জাবি ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার যে দাবি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী করেছেন, তা অসত্য। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone