শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-১ তানোরে ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের কপাল পুড়লো  রিশিকুলকে মডেল ইউপিতে রুপান্তর করতে চাই, চেয়ারম্যান টুলু ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে: টিক্যাব ডেঙ্গু দুর্যোগ প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ : রোগী কল্যাণ সোসাইটি দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাইকেল পার্কিং এর সুব্যবস্থা রাখতে হবে সরকারি দখলকৃত জায়গা উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণের দাবি জানালো সবুজ আন্দোলন ৯০ কৃষককে কৃষি উপকরণ দিলো রাবির শিক্ষার্থীরা গণমানুষের মুক্তি সংগ্রামে সাহসী নেতা জেবেল : রীবন বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইউএনও’কে বিদায় সংবর্ধনা দক্ষিণাঞ্চলে কমেছে করোনা বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সাংবাদিক মাসুদের বিরুদ্ধে সেই দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের জিডি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের হারবিন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির চুক্তি নোয়াখালীতে বরযাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু-১, আহত-১২

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

 


অনলাই ডেস্ক

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক সময় মানুষের মৌলিক চাহিদার অত্যতম বাসস্থান হিসাবে মাটির তৈরী টালি ঘরের ব্যাপক প্রচলন ছিল। উপজেলার বানিয়াজান, যদুনাথপুর, পাইস্কা, বীরতারা, ধোপাখালী, মুশুদ্দি ও বলিভদ্রসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চোখে পড়ত মাটির তৈরী ঘর। কিন্তু এখন আর এগুলো চোখে পড়েনা। যুগের পরিবর্তনের সাথে শহরের পাশাপশি গ্রামের মানুষের রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। জীবনযাত্রর মান উন্নয়ন আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে এ মাটির ঘর। আড়াই থেকে তিন যুগ আগেও গ্রামে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ঘর ছিল মাটির। বসবাসের জন্য প্রাচীন মাটির ঘর ব্যবহার হতো। শীতকালে যেমন গরম অনুভব হতো তেমনি গ্রীষ্মকালেও মাটির ঘরে থাকতো শীতল অনভূতি। যা বর্তমানে যুগের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতোই আরামদায়ক।

এই ঘর তৈরী করার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল বা দো-আঁশ মাটি। ঘর তৈরী করার জন্য তেমন খরচ হতো না। কৃষক-কৃষাণী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলে অল্প কয়েক দিনের মধ্য তারা এই ঘর তৈরী করে ফেলত। যে মাটি দিয়ে ঘর তৈরী করা হবে সেই মাটি কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে ঝুর-ঝুরে করে নেওয়া হতো। তার পর তার সাথে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা করে নেয়া হতো। তার পর সেই কাঁদামাটি দিয়ে তৈরী করা হতো মাটির ঘর। অল্প-অল্প করে মাটি বসিয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট উচু করে এবং সেই কাঁদায় ২৫/৩৫ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরী করা হতো। এ দেয়াল তৈরী করতে বেশ সময় লাগতো। কারণ এক সাথে বেশি উঁচু করে তৈরী করা যেতো না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু করা যেতো। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরী করা হতো। এভাবে দেয়াল তৈরী করা হলে কিছু দিন রোদে শুকানো হতো। তারপর এই দেয়ালের উপর বাঁশের চাল তৈরী করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হতো। একটি মাটির ঘর তৈরী করতে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতো।

বণ্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শত বছর পর্যন্ত টিকে থাকতো। যারা এলাকার প্রবাবশালী তাদের বাড়ীতে থাকতো দু’তালা আর মধ্যবিত্তদের থাকতো একতালা ছোট আকারের ঘর।

এ ব্যাপরে আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের মানাবিক বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আন তিথি বলেন, কখনো মাটির ঘর দেখিনি। তবে দাদা ও বাবার কাছে মাটির ঘরের কথা শুনেছি। এক সময় নাকি গ্রামের অনেকেই মাটির ঘরে বসবাস করতো। এটা দেখতে নাকি খুবই সুন্দর।

কয়ড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মো. আঃ হামিদ (৯৫) বলেন, ৩০/৪০ বছর আগেও মাটির ঘর ছিল। এক সময় আমার বাড়ীতে ২টা মাটির ঘর ছিল। তিনি আরো বলেন, বর্তমানের মাটির ঘরের স্থান করে নিয়েছে পাকা ঘরগুলো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই নানা বাহারী রকমের পাকা ঘর তৈরী করছে। এখন মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একদিন মাটির ঘরের কথা বাংলার মানুষের মন থেকে হারিয় যাবে। মাটির ঘর রূপকথার গল্প, কবিতার ছন্দ, সাহিত্যর পাতায় বা যাদুঘরে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone