বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চট্টগ্রামে মিলছে না আইসিইউ, করোনায় মৃত্যু আরো ১৭ নড়াইলে ১৪ দিনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন। এসপি প্রবীর কুমার রায়!! সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি কঠোর বিধিনিষেধ : সব মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল আওয়ামী লীগ এদের কোথা থেকে নিয়ে আসে কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আরো ২৪ ৪২তম বিসিএসে আরো ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন গাইবান্ধায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন হন্তান্তর দিনাজপুর বিরামপুরে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন নলছিটিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল আউয়াল। নড়াইলের পল্লীতে র‌্যাব’র অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ১ আগস্টে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালু করতে চায় ঢাকা ৬ মাছ ধরার ট্রলার সাগরে ডুবে ৬ জন নিখোঁজ করোনা টেস্টে গ্রামীণ জনগণের ভীতি নিরসনে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী দেশের সকলেই করোনার টিকা পাবে: প্রধানমন্ত্রীর পুনরায় আশ্বাস

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

 


অনলাই ডেস্ক

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক সময় মানুষের মৌলিক চাহিদার অত্যতম বাসস্থান হিসাবে মাটির তৈরী টালি ঘরের ব্যাপক প্রচলন ছিল। উপজেলার বানিয়াজান, যদুনাথপুর, পাইস্কা, বীরতারা, ধোপাখালী, মুশুদ্দি ও বলিভদ্রসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চোখে পড়ত মাটির তৈরী ঘর। কিন্তু এখন আর এগুলো চোখে পড়েনা। যুগের পরিবর্তনের সাথে শহরের পাশাপশি গ্রামের মানুষের রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। জীবনযাত্রর মান উন্নয়ন আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম থেকে হারিয়ে গেছে এ মাটির ঘর। আড়াই থেকে তিন যুগ আগেও গ্রামে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ঘর ছিল মাটির। বসবাসের জন্য প্রাচীন মাটির ঘর ব্যবহার হতো। শীতকালে যেমন গরম অনুভব হতো তেমনি গ্রীষ্মকালেও মাটির ঘরে থাকতো শীতল অনভূতি। যা বর্তমানে যুগের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতোই আরামদায়ক।

এই ঘর তৈরী করার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল বা দো-আঁশ মাটি। ঘর তৈরী করার জন্য তেমন খরচ হতো না। কৃষক-কৃষাণী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলে অল্প কয়েক দিনের মধ্য তারা এই ঘর তৈরী করে ফেলত। যে মাটি দিয়ে ঘর তৈরী করা হবে সেই মাটি কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে ঝুর-ঝুরে করে নেওয়া হতো। তার পর তার সাথে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা করে নেয়া হতো। তার পর সেই কাঁদামাটি দিয়ে তৈরী করা হতো মাটির ঘর। অল্প-অল্প করে মাটি বসিয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট উচু করে এবং সেই কাঁদায় ২৫/৩৫ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরী করা হতো। এ দেয়াল তৈরী করতে বেশ সময় লাগতো। কারণ এক সাথে বেশি উঁচু করে তৈরী করা যেতো না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু করা যেতো। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরী করা হতো। এভাবে দেয়াল তৈরী করা হলে কিছু দিন রোদে শুকানো হতো। তারপর এই দেয়ালের উপর বাঁশের চাল তৈরী করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হতো। একটি মাটির ঘর তৈরী করতে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতো।

বণ্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শত বছর পর্যন্ত টিকে থাকতো। যারা এলাকার প্রবাবশালী তাদের বাড়ীতে থাকতো দু’তালা আর মধ্যবিত্তদের থাকতো একতালা ছোট আকারের ঘর।

এ ব্যাপরে আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের মানাবিক বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আন তিথি বলেন, কখনো মাটির ঘর দেখিনি। তবে দাদা ও বাবার কাছে মাটির ঘরের কথা শুনেছি। এক সময় নাকি গ্রামের অনেকেই মাটির ঘরে বসবাস করতো। এটা দেখতে নাকি খুবই সুন্দর।

কয়ড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মো. আঃ হামিদ (৯৫) বলেন, ৩০/৪০ বছর আগেও মাটির ঘর ছিল। এক সময় আমার বাড়ীতে ২টা মাটির ঘর ছিল। তিনি আরো বলেন, বর্তমানের মাটির ঘরের স্থান করে নিয়েছে পাকা ঘরগুলো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই নানা বাহারী রকমের পাকা ঘর তৈরী করছে। এখন মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একদিন মাটির ঘরের কথা বাংলার মানুষের মন থেকে হারিয় যাবে। মাটির ঘর রূপকথার গল্প, কবিতার ছন্দ, সাহিত্যর পাতায় বা যাদুঘরে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone